ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গতকল বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তার কক্ষে বসে আছেন। তার পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। নেতাকর্মীরা ছিলেন রুমিন ফারহানার সঙ্গে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না দেওয়া এবং থানার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাতে সরাইল থানায় যান সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। তাদের একজন ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে আনা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওসির রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।
ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। যেহেতু এসব অভিযোগ আপনার নামে উঠেছে, সেহেতু আপনার উচিত হবে বিষয়গুলো মিডিয়ার সামনে পরিষ্কার করা। এভাবে তো চলতে পারে না।’
একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।
পরে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন রুমিন।
এদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তার দাবি, সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। একদিকে সংসদ সদস্য থানার ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে থানায় অস্থিরতা তৈরির জন্য সংসদ সদস্যের উপস্থিতিকে দায়ী করেছেন।
