কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার পাটোয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রেস্তো নামে একটি রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রিসোর্ট থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
আগুনে পুরো রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চলছে। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৃতরা হলেন-ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে রিসোর্টটিতে। কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছয়-সাতটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা পর্যটকেরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন, কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন।
মোহাম্মদ সোহেল নামে রিসোর্টের এক কর্মচারী বলেন, রিসোর্টে ১৮ জন অতিথি ছিলেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত শটসার্কিট কিংবা চুলার আগুন থেকে ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি পুরোপুরি কাঠের নির্মিত হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পরে। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে(এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।







