রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে একদল লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে তার বাসায় হামলা চালান। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে বাসার জানালাসহ বিভিন্ন কাচ ভেঙে যায় বলে জানা গেছে।
জি এম কাদের জানান, সকালের নাশতা সেরে তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বাসার বাইরে হইচই শুনতে পান। এ সময় তার নাম ধরে ‘ভারতের দালাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিলো। তার ধারণা, সেখানে এক থেকে দেড় শ লোক ছিলেন। এরপর লোকজন তার বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে বাসার জানালাসহ বিভিন্ন কাচ ভেঙে যায়। তবে হামলাকারীরা বাসার ভেতরে প্রবেশ করেননি। তিনি থানায় ফোন দিলে পুলিশ আসে। এর মধ্যে হামলাকারীরা চলে যান।
হঠাৎ কেন এ হামলা হয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান জি এম কাদের।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, আমাদেরকে খবর দেওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, জিএম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন একদল বিক্ষোভকারী। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তার দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

‘স্বৈরাচার বিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন ও বিচার দাবি করেন। বিক্ষোভ মিছিলের ওই ব্যানারে কারাগারে বন্দি জিএম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। তাতে লেখা ছিল-‘জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সাথে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। তারা বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি বিগত সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো দোসরকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি, ৫ ধাপে হবে ভোট
