, | |

মূলপাতা রাজধানী

গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা


গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’এর চারটি ওয়্যারহাউসে অভিযান চলে। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৫ : পূর্বাহ্ণ

‘অননুমোদিত’ গুদামে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের দুটি বৈধসহ চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ এক যৌথ অভিযানে সেসব সিলগালা করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ও ঘোষিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল মাত্র দুইটি। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, তারা অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত করে রেখেছিল। মূলত অনুমোদিত পরিসরের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত আরও দুইটি অননুমোদিত ওয়্যারহাউসে আইনবহির্ভূতভাবে পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদিত সফটওয়্যারে খালাস দেখানো মদ গুদামে মজুত পাওয়া গেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বরের কাগজপত্রে ২ হাজার ২৫০ কার্টন হাইনেকেন বিয়ার আমদানির তথ্য থাকলেও সরেজমিনে গুদামে তা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া চার তলা বিশিষ্ট ভবনের দুটি ফ্লোর কাস্টমসের কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টস বন্ডের পরিচালক শেখ নূর ইসলাম ও তার পরিবার। এর আগে তাঁর মালিকানাধীন ‘ফুওয়াং ক্লাব’ ও ‘কয়লা রেস্টুরেন্ট’-এও একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে যৌথ টিমের কর্মকর্তারা টস বন্ডের রেজিস্টার খাতা, এনবিআর অনুমোদিত ডিজিটাল সফটওয়্যার এবং ওয়্যারহাউজে রক্ষিত মদের বর্তমান স্টক সরেজমিনে মিলিয়ে দেখেন।

কর্মকর্তারা জানান, সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ‘এক্সবন্ড’ বা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে তথ্য লেখা হয়েছিল, অথচ গুদামে তল্লাশি চালিয়ে বাস্তবে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি এবং ৬ বোতল নেমিরফ মদ সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে হাইনেকেন বিয়ারের একটি চালানে। প্রতিষ্ঠানের ডিজিটালি সংরক্ষিত তথ্যে দেখা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ২৫০ কার্টন বিয়ার ওয়্যারহাউজে প্রবেশ বা ‘ইনবাউন্ড’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু যৌথ টিম পুরো ওয়্যারহাউজে তল্লাশি চালিয়ে সেই বিয়ারের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি।

 

ধারণা করা হচ্ছে, সফটওয়্যারে আমদানি দেখানো হলেও বাস্তবে ওই পণ্যগুলো আগেই চোরাই পথে বা খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, ওয়্যারহাউজটির মোট চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ফ্লোর ব্যবহারের বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কোনো বৈধ অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

গুলশানের এই ‘টস বন্ড’ মূলত কূটনৈতিক পাড়ায় অবস্থিত একটি ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে শুল্কমুক্ত সুবিধায় অ্যালকোহল ও মদ সরবরাহ করাই এদের প্রধান কাজ।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, কানাডা থেকে পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে টস বন্ডের পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং কন্যা তাসনিম ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া নানা অনিয়মের কারণে বেশ আলোচিত তেজগাঁও লিংক রোডের দুই প্রতিষ্ঠান কয়লা রেস্টুরেন্ট ও ফুওয়াং ক্লাব। বিভিন্ন সময় সেখানে মাদকবিরোধী অভিযানও হয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানেরও মালিক শেখ নূর ইসলাম।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও। শেখ নূর ইসলাম সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর।

এ ঘটনায় ফেসবুকে লাইভে সালমান মুক্তাদির ঘটনার জন্য ‘বিএনপির চাঁদাবাজিকে’ দায়ী করেন। পরে অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে সরে আসেন।

পরে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া যে মামলা করেছেন, তাতে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০।

মামলায় এখন পর্যন্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

Rajniti Sangbad


আরও খবর