, | |

মূলপাতা অর্থ-বাণিজ্য

টিসিবির কার্ড পেতে কী লাগবে, কারা পাবেন?


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪২ : পূর্বাহ্ণ

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার জন্য উপকারভোগী নির্বাচনের নিয়ম নতুন করে নির্ধারণ করেছে সরকার। এতো দিন নিম্ন আয়ের মানুষকে টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতায় রাখা হলেও নতুন নির্দেশিকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংজ্ঞা ও কারা কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি, হিসাব সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকির বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী-হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির কার্ডধারী হওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। এর পাশাপাশি বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত এবং অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তারাও অগ্রাধিকার পাবেন।

তবে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিসিবির সুবিধাভোগী হতে পারবেন না। কার্ড পাওয়ার জন্য উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের নামে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

নির্বাচিত উপকারভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নির্বাচিত পরিবারগুলোর তথ্য টিসিবির সেবা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

নতুন নির্দেশিকায় সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক তদারক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব কমিটি উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভান্ডার তৈরি, কার্ড বিতরণ এবং পণ্য বিক্রির কার্যক্রম তদারক করবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিসিবির কার্ডধারী প্রতি পরিবারকে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে পাঁচ কেজি চালও দেয়া হবে। সরকার সময় সময় পণ্যের সংখ্যা, পরিমাণ এবং মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।

পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে সরকার চাইলে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে পারবে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছেন। সম্প্রতি টিসিবির এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব কার্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দেওয়ার কথা রয়েছে।

উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত কার্যক্রমে নজরদারি জোরদারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়। জেলা পর্যায়ের তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে।

এ কমিটিতে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সমাজসেবা কর্মকর্তা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা এবং টিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়েও তদারক কমিটি থাকবে। এতে সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রাখা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকবে ‘ট্যাগ টিম’। এসব টিম টিসিবির ডিলারের দোকান ও বিক্রয় পয়েন্ট পরিদর্শন করবে এবং কার্ডধারীদের কাছে পণ্য যথাযথভাবে বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করবে।

ডিলারের দোকানের সামনেও পণ্য বিক্রির বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। টিসিবির পণ্যের ভোক্তা মূল্যতালিকা সেখানে টানিয়ে রাখতে হবে। পণ্য পাওয়ার তারিখ ও সময়, মূল্য এবং বিতরণ করা পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ কার্ডধারীদের জানাতে হবে।

পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিলারের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসমক্ষে পণ্য বিক্রির তথ্য টিসিবির কর্মীদের অবহিত করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। গুদাম ব্যবস্থাপনাতেও নতুন নিয়ম রাখা হয়েছে। টিসিবির নিজস্ব অথবা ভাড়া করা গুদামে পণ্য সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব গুদাম পরিদর্শন করবে সরকার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি সাশ্রয়ী মূল্যে দুই লাখ টন ভোজ্যতেল, দুই লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল এবং এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রি করবে।

বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারকে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই ভর্তুকির পরিমাণ কমে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হবে বলে আশা করছে টিসিবি।

Rajniti Sangbad


আরও খবর