, | |

মূলপাতা জাতীয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি


বৈঠক শেষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:১২ : অপরাহ্ণ

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সংবিধানের মৌলিক কোনো সংশোধন আনা হলে তা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন। তাদের কাছ থেকে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নিতে হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যেহেতু আমরা একমত হয়েছি, আমরা ধারণ করবো। ভবিষ্যতে কোনো পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে যেন গণভোটে যেতে হয়, এই চারটা বিধানের সঙ্গে এই দুইটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একমত হয়েছিল। এটা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেগুলোতে গণভোট হবে। আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে ডিসেম্বরের ভিতরে আমরা আমাদের রিপোর্টটা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে পারি। সেই ক্ষেত্রে এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটা বিল আসবে। আমি আশা করি, জানুয়ারি সেশনে, যেটা বছরের প্রথম অধিবেশন, সেই সেশনে বিলটা আসবে।

 

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সে সময় আলোচনা হয়েছিল। বাম ধারার চারটি দল সনদে সই করেনি। সব মিলিয়ে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট ওই সনদে সই করে।

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান–সম্পর্কিত। এগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোট হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুসারে ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কাজ শেষ করার কথা।

তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। তাদের দলের সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথও নেয়নি। পরে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচ প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা নাম দেয়নি। বিরোধী দল ওই কমিটিও প্রত্যাখ্যান করে।

আরও পড়ুন: নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ভারতে সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান

Rajniti Sangbad


আরও খবর