, | |

মূলপাতা জাতীয়

ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি-আর’ কৌশলে, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:১৯ : পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় ভোর সোয়া ৪টা) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ১৮ জনের মধ্যে ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। মাতৃভাষা বাংলায় ২১ মিনিটের বক্তব্যে ভাষণ দিতে গিয়েও বিশ্ববাসীর সামনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশন তুলে ধরেছেন তারেক রহমান।

দেশ পরিচালনায় নিজের এবং সরকারের ভিশন তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।’

বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।’

 

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে-সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ……সবার জন্য বাংলাদেশ।’’

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এর ফলে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান। এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চান তিনি। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।’

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।’

যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধ করে আলোচনা, ‘কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মারণাস্ত্র নয়, যুক্তি, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাই হওয়া উচিত বিশ্বে পরিবর্তনের হাতিয়ার।’

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পেলেন জাইমা রহমান

Rajniti Sangbad


আরও খবর