রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা খালি কনটেইনার নন-বন্ডেড এলাকায় সংরক্ষণের অনুমতি চেয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর কাছে তিনি এ চিঠি পাঠিয়েছেন।
জানা গেছে, এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টরা খালি কনটেইনার নন-বন্ডেড এলাকায় সংরক্ষণের অনুমতি চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এনবিআর এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে চেম্বার সভাপতি চিঠিতে বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু, বর্তমানে খালি কনটেইনারের প্রচণ্ড চাপের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে না।
চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটররা শিপিং লাইসেন্সের খালি কনটেইনার সংরক্ষণ করতে পারেন না। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে খালি কনটেইনার জমা হওয়ার কারণে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, শ্রমিক কর্মবিরতি কিংবা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কনটেইনার ডেলিভারি ব্যাহত হলে বন্দরের ওপর কনটেইনারের চাপ আরও বৃদ্ধি পায় এবং সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হয়।
আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার কারণে বিপুলসংখ্যক খালি কনটেইনার দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করতে হয়। বিশেষ করে ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারের তুলনায় ৪০ ফুট লম্বা কনটেইনারের চাহিদা বেশি। কিন্তু বন্দর ও ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ২০ ফুট খালি কনটেইনার দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের লাইসেন্সের বাইরে নন-বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি প্রদানের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া শিপিং এজেন্ট বা এমএলওগণ এ বিষয়ে অনুমতি প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু উক্ত চিঠির প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কিনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা শিপিং এজেন্ট/এমএলওগণ অবগত নয়। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে নন-বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
আমিরুল হক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর এমনকি প্রতিবেশী দেশের বন্দরগুলোতেও এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান যা বন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক হিসেবে প্রতীয়মান। তাই বাংলাদেশেও এরূপ অনুমোদন প্রদান করা হলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আমরা মনে করি।
আরও পড়ুন: বন্যার্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা দিলো চিটাগাং চেম্বার
