, | |

মূলপাতা অন্যান্য

কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ


কাউন্সিলর একরামুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৬ জুলাই, ২০২৬ ৪:০৫ : অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আটজনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তিনজনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান।

তাদের মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আবদুর রহমান বদি, মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খানকে এ মামলায় হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই ১১ জন ছাড়াও র‍্যাব-৭ এর কর্মকর্তা, সদস্য, র‍্যাবের সিভিল টিম ও ডিজিএফআই সদস্যদের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্ন মতাবলম্বী ও সমালোচকদের নিশ্চিহ্ন করার ‘নীল নকশা’ করেন। এর অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে সারাদেশে গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

 

আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, জোরপূর্বক অপহরণ, কথিত ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, সুযোগ তৈরি, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটং’র সামনের রাস্তা থেকে একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সি একরামুল হক।

নিহত একরামুল টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তার বাবার নাম আব্দুস ছাত্তার, মায়ের নাম হাফেজা বেগম।

একরামুল নিহত হওয়ার পর র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। একরামের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

একরামুলের ভাই এহসানুল হক বাহাদুর তখন বলেছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে সাধারণ পোশাকের কিছু লোক শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জানায়, জমি বিক্রির ব্যাপারে একরামুলের সঙ্গে কথা বলতে চায় তারা। পরে গভীর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুলের নিহত হওয়ার খবর পান।

পরে একরামের মৃত্যুর সময়কার একটি অডিও প্রকাশ পেলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, র‌্যাব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সে ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের সব হত্যাকাণ্ডের বিচারিক তদন্ত করতে বলেছিলেন।

একরামকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

একরাম হত্যার সময় র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বেনজীরের পাশাপাশি কক্সবাজারে র‌্যাব-৭ এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও আসে।

আরও পড়ুন: যে শর্তে বিএনপির সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে সাহাবুদ্দিনের

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর