, | |

মূলপাতা জাতীয়

জালিয়াতির অভিযোগের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন পুতুল


সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০২ : পূর্বাহ্ণ

অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের করা প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মুখে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।

গতকাল বুধবার ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন পুতুল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই পদত্যাগপত্র দেখেছে।

চীন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুতুল।

গত জুলাইয়ে তার আইনজীবীদের পাঠানো চিঠিতে চীন সফর নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ নাকচ করে বলা হয়, নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তার একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের জবাবে পুতুল বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।

জমি নিয়ে অভিযোগও অস্বীকার করেছেন পুতুল। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেয়ার আগেই তিনি জমিটি অধিগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় ওই জমি পাওয়ার অধিকার তার ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে পুতুল লিখেছেন, ‘আমি আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে করে এসেছি।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনি দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে আমাকে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে।’

পুতুল বলেন, তাকে বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, পুতুল ছুটিতে আছেন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে তার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলোর ভোটে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন পুতুল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য তিনি দায়িত্ব নেন।

এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পুতুলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব তদন্ত শুরু হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পুতুলকে প্রথম অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত তিনি ওই ছুটিতেই ছিলেন।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর