, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

পানির নিচে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম শহর, ক্ষুব্ধ নগরবাসী


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :৮ জুলাই, ২০২৬ ৩:৩৫ : অপরাহ্ণ

টানা ভারী বৃষ্টিতে পানির নিচে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর অনেক এলাকা। নগরীর অনেক এলাকায় সড়ক ছাড়িয়ে বাসাবাড়িতেও জলাবদ্ধতার পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও যানবাহন বন্ধ হয়ে গেছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষকে হাঁটু বা কোমরসমান পানি পেরিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলের নেতারাও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও নানা সমালোচনা করছেন।

চট্টগ্রামের আমবাগান আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ রাজনীতি সংবাদকে জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ টিমের তথ্যমতে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপা হয় মিলিমিটার এককে। ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত মানে ১ বর্গমিটার এলাকায় বৃষ্টির পানি জমলে তার উচ্চতা হবে ১ মিলিমিটার। আর ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হলো ১ লিটার পানির সমান। সে হিসাবে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত মানে প্রতি বর্গমিটার এলাকায় ৭৫ লিটার পানি পড়েছে। রেইন গেজ নামের যন্ত্র দিয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপা হয়।

গত রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। তবে সোমবার থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। টানা দিনদিন ধরে চট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজন কুমার রায় জানান, আরও অন্তত দুই দিন চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আজ বুধবার সকালে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। চান্দগাঁও, মোহরা, অক্সিজেন, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, পশ্চিম বাকলিয়ার কেবি আমান আলী সড়ক, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, ভবনের নিচতলা এবং দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অফিসগামী লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। জলাবদ্ধ এলাকার জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরের চুলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

নগরীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার নিচতলাও পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমও বন্ধ রেখেছে।

গতকাল মঙ্গলবারও ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, এবারের বৃষ্টিতে নগরীর দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, হালিশহর, সদরঘাট, ইপিজেড, বন্দরটিলা, সিমেন্ট ক্রসিং ও পতেঙ্গা এলাকায়ও জলাবদ্ধতা হয়েছে। এসব এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়িতে হাঁটু সমান পানি উঠেছে। যা বিগত সময়ে হয়নি।

এসব এলাকার সাধারণ মানুষরা প্রশ্ন তুলছেন, বিগত সময়ে এসব এলাকায় এরকম জলাবদ্ধতা হয়নি। ঘরে ঘরে পানি উঠেনি। এবার কেন হলো? এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তাহলে এরপরও কেন জলাবদ্ধতা হলো? আর জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পরও যে জলাবদ্ধতা হবে না মেয়র কি এর নিশ্চয়তা দিতে পারবেন?

এদিকে নগরবাসীদের অনেকে ফেসবুকে জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। খোদ নিজের দলের এক নেতা জলাবদ্ধতা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মিয়া মো. হারুন খান একটি সংবাদমাধ্যমে তার বাসায় জলাবদ্ধতার পানি ঢোকার দৃশ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ঘরে বিগত ২৫ বছরে এ ধরণের পানি উঠেনি। আমাদের ঘরের সব জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। শাহাদাত ভাইয়ের কাছে আমার প্রশ্ন, আমাদের কী অপরাধ ছিল?’

জানা গেছে, এই যুবদল নেতার বাসা নগরীর দেওয়ানহাট মনসুরাবাদ এলাকায়। তিনি মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির অনুসারী।

গত সোমবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনিটরিংয়ের কারণে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতেও চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা হয়নি।

মেয়রের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক রাজনীতি সংবাদকে বলেন, মেয়রের এ বক্তব্যের পর রাস্তাঘাট ও চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষ এখন জলাবদ্ধতা নিয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে নানা সমালোচনা করছেন। মেয়র কেন এখানে প্রধানমন্ত্রীকে জড়ালেন?

উল্লেখ্য, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ৩৬টি খাল নিয়ে চলমান এই প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গত ১৯ এপ্রিল থেকে খাল-নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর