চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও ফটিকছড়ি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মাইজভান্ডার দরবার শরিফসংলগ্ন একটি বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মশাল মিছিলের ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮০–৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার আসামিদের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।
মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম (৬২), সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার (৪০) ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের (৪০) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাঙ্গিরি এলাকার বিশ্রামাগারে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সভার অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের ফটিকছড়ি উপজেলা শাখা সভার আয়োজন করে। সভা শেষে তারা মশাল হাতে একটি মিছিল বের করেন।
বিশ্রামাগারটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের অর্থায়নে মাইজভান্ডারি ভক্তদের জন্য নির্মিত ও পরিচালিত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রোসাঙ্গিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট–মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল হাতে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় তারা জড়ো হন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলমকে এখন গ্রেপ্তার করা হবে না। তদন্তে প্রমাণ পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টকে ‘বিভ্রান্ত’ করে ফেঁসে গেলেন ‘ঋণখেলাপি’ আমজাদ চৌধুরী!
