বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। দেশের মুসলিম সম্প্রদায় আজ বৃহস্পতিবার মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। এই ঈদ শুধু আনন্দের নয়, ত্যাগেরও। আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় প্রিয় বস্তুকে কোরবানি করে সেই ত্যাগের কথাকেই স্মরণ করা হয়। এটি মানুষকে পশুর সাথে অন্তরের পশুত্বকেও কোরবানি দিতে শিক্ষা দেয়।
টিকিটের হাহাকার, সড়কে ভোগান্তি, যানজট, বৃষ্টি-নানা ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে ইতোমধ্যে শিকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি ফিরে গেছেন শহুরে মানুষেরা।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের জীবনে বছরে দুটি খুশির দিনের একটি এই ঈদুল আজহা। এই ঈদে পশু কোরবানিই প্রধান ইবাদত। তাই পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত।
কোরবানির মধ্যে দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ সকালে মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে যান ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে শুরু হয় কোলাকুলি, শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় । এরপর অনেকেই যান কবরস্থানে স্বজনের কবর জিয়ারত করতে। আনন্দের দিনে অশ্রুসিক্ত হয়ে চিরকালের জন্য চলে যাওয়া স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে করজোড়ে মোনাজাত করেন তারা।
নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে মহান আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন সামর্থবান মুসলমানরা। আল্লাহতাআলা সামর্থবান মুসলমানদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক করেছেন। আর সেই কোরবানির মাংসের তিনভাগের এক ভাগ দরিদ্র মানুষের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া ইসলামের বিধান।
ঈদের পরে আরও দুই দিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান আছে।
ইসলামে কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়। কোরবানিদাতা কিয়ামতের দিন জবেহকৃত পশুর লোম, শিং, ক্ষুর, পশম ইত্যাদি নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। কোরবানির রক্ত জমিনে পতিত হওয়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব, তোমরা কোরবানির সঙ্গে নিঃসংকোচ ও প্রফুল্ল মন হও।’- (হাদীস: ইবনে মাজাহ, তিরমিজি)।
কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত আদম (আ.) থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারীরা কোরবানি করেছেন।
ইসলামের ইতিহাসে হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল-কাবিলের মাধ্যমে প্রথম কোরবানির সূত্রপাত হয়। প্রায় চার হাজার বছর আগে মহান আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের ছেলে হযরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে একটি দুম্বার কোরবানি হয়ে যায়।
হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ লাভের জন্য পশু কোরবানি করে থাকেন।
আরও পড়ুন: ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটির ঠিকানা হলো চিড়িয়াখানায়
