পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ শনিবার। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এলো খুশির ঈদ। সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও সংঘাত ভুলে সাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে আনন্দের এই দিন।
ঈদ অর্থ আনন্দ। আর ফিতর বলতে রোজার সমাপ্তি, বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা। যেহেতু দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের এক তারিখে এর সমাপ্তি ঘটানো হয়, তাই এর নাম ঈদুল ফিতর।
মূলত মুমিন বান্দারা কঠোর সাধনার মাধ্যমে টানা ৩০ দিন যে সিয়াম পালন করেছেন, সেটার প্রতিদান বা পুরস্কার প্রদানের জন্যই এই উপলক্ষ। এজন্য ঈদুল ফিতরকে বলা হয় পুরস্কারের ঈদ। আর পুরস্কারপ্রাপ্তি মানেই আনন্দের। ফলে ঈদুল ফিতর মুমিনের খুশির উৎসব।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘‘রমজানের শেষে মুমিন বান্দারা যখন তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহের উদ্দেশে রওয়ানা হন, আল্লাহ তায়ালা তখন ফেরেশতাদের বলেন, ‘যে বান্দা তার কর্তব্য সম্পন্ন করে, তার প্রতিদান কী হওয়া উচিত?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তার প্রতিদান পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া উচিত।’ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দারা তাদের ওপর আরোপিত কর্তব্য পালন করে এখন আমার মহিমা ঘোষণা করতে করতে বের হয়েছে। আমি আমার মর্যাদা ও প্রতিপত্তির শপথ করে বলছি, তাদের দোয়া অবশ্যই কবুল করবো। তারপর আল্লাহ ঘোষণা করেন, তোমরা ফিরে যাও। আমি তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দিলাম। আর তোমাদের পাপরাশিকে সওয়াবে পরিণত করলাম।’’ (বায়হাকী)
ঈদ মুসলমানদের জাতীয় সম্মেলন ও ঐক্যের প্রতীক। ঈদের সূচনা হয় হিজরি দ্বিতীয় সন অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে।
অন্ধকার যুগে আরবের মক্কায় ‘উকাজ মেলা’ এবং মদিনায় ‘নীরোজ’ ও ‘মিহিরগান’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অশ্লীল আনন্দ-উল্লাস করা হতো। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় আগমনের পর মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর ও অশ্লীলতামুক্ত স্বতন্ত্র আনন্দ-উৎসবের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এজন্য তিনি মুসলমানদের নির্মল আনন্দ উৎসব করতে বছরে দুটি ‘ঈদ’ উৎসবের প্রর্বতন করেন। এর একটি হলো ঈদুল ফিতর, অন্যটি হলো ঈদুল আজহা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে বেজে চলেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান- ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ…।
এই খুশির আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ছুটে গেছে গ্রামের বাড়িতে। খুশি ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে এক মহামিলনের সীমানায়। নতুন জামাকাপড় পরে উৎসবে মেতে ওঠে সব বয়সী মানুষ। বড়রা ছোটদের নতুন উপহার এবং সেলামির টাকা দেয়, যা এই দিনের খুশির চেতনা এবং তাৎপর্যকে প্রতিফলিত করে।
এ ছাড়া, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলার ঘরে ঘরে সাধ্যমতো ভালো খাবার রান্নার চেষ্টা করা হবে। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে গোসল-অজু করে দিনের শুরুতে সেমাই, মিষ্টিমুখ করে মুসল্লিরা যাত্রা শুরু করবেন ঈদের জামাতে অংশ নিতে। নামাজ আদায় শেষে ঈদগাহ ময়দানে বুকে বুক মেলাবেন।
নামাজ আদায় শেষ করে মুসল্লিরা যাবেন কবরস্থানে প্রিয়জনের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে। কবরস্থান থেকে মুসল্লিরা বাসায় ফিরে খাবার খেয়ে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করবেন। প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ–আড্ডায় মেতে উঠবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শিশুরা নতুন পোশাক পরে নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাবে।
এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে আপনজনের সাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামে ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ১৯ বছর পর দেশে ঈদ করছেন তারেক রহমান
