প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মাকালুর চূড়ায় উঠেছেন পর্বতারোহী বাবর আলী। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।
বাবর আলীর এই অভিযানের নাম ছিল “এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার”, যার আয়োজন করে চট্টগ্রামের পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চূড়ায় সফলভাবে পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত হলেও এখনো বেসক্যাম্পে ফেরার পথে রয়েছেন বাবর আলী। পর্বতারোহণে শীর্ষ জয় যতটা কঠিন, নিরাপদে নিচে নেমে আসাও ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সবাইকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন সহযাত্রীরা।
গত ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন বাবর আলী। এরপর প্রস্তুতি শেষে ১৮ এপ্রিল তিনি বেসক্যাম্পে পৌঁছান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে ক্যাম্প-১ ও ক্যাম্প-২ এ ওঠানামা করেন এবং পরবর্তীতে ৭,৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত ১,১০০ মিটারের বেশি কঠিন আরোহন শেষে শীর্ষে পৌঁছান তিনি।
বাবর আলীর পর্বতারোহণ ক্যারিয়ারে এটি আরেকটি বড় অর্জন। তিনি এর আগে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট, চতুর্থ উচ্চতম মাউন্ট লোৎসে, দশম উচ্চতম অন্নপূর্ণা এবং অষ্টম উচ্চতম মাউন্ট মানাসলু জয় করেছেন।
২০২২ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দুর্গম টেকনিক্যাল শৃঙ্গ আমা দাবলাম জয় করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি এভারেস্ট ও লোৎসে একই অভিযানে আরোহণ করেন, যা বাংলাদেশি পর্বতারোহণ ইতিহাসে প্রথম ঘটনা।
২০২৫ সালে অন্নপূর্ণা এবং অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু জয় করে তিনি আরও বড় সাফল্য অর্জন করেন। সর্বশেষ মাকালু জয়ের মাধ্যমে আট হাজার মিটারের ওপরে ১৪টি শৃঙ্গের মধ্যে পাঁচটির শিখরে পৌঁছানোর পথে আরও এক ধাপ এগোলেন এই বাংলাদেশি পর্বতারোহী।
ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স জানায়, আবহাওয়া অনুকূল হলে তিনি দ্রুত ক্যাম্প-২ হয়ে বেসক্যাম্পে ফিরে আসবেন। বাবর আলী ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত পর্বতারোহণে যুক্ত আছেন এবং বর্তমানে তিনি ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সাধারণ সম্পাদক।
আরও পড়ুন: ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের চুক্তি সই
