ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। ঢাকার এই উদ্যোগ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নয়াদিল্লি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে-এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী?
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন দেখেছি, তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’
এরআগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে জানিয়েছে চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের করা কিছু ব্যবস্থায় বিদেশি জাহাজকে বাংলাদেশের জাহাজের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জানানো হবে বলেও জানান চিফ হুইপ। তবে কোন কোন চুক্তি বহাল থাকবে, সংশোধন হবে বা বাতিল হতে পারে-এ বিষয়ে সরকার এখনো নির্দিষ্ট কোনো তালিকা প্রকাশ করেননি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারত সরকারের ‘অদৃশ্য চাপ’, দিল্লিতে হাসিনার বৈঠক বাতিল
