, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

কী কারণে চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় গেলেন হাসনাত আবদুল্লাহ?


চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৯ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় মনজুর আলমের ‘এইচ এম ভিলা’ নামের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, হাসনাত মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন-এ খবর শুনে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন একদল মানুষ। পরে হাসনাত ওই বাসা থেকে বের হলে তাঁরা তাঁকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধরা হাসনাতকে প্রশ্ন করছেন, ‘আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন? তিনি (মনজুর আলম) তো আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত দোসর।’

বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন এবং তার অবস্থানের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাবি করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিরা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে গাড়িতে তুলে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুটি গাড়িতে করে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই সেখানে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলমের সঙ্গে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লার হঠাৎ বৈঠক করা নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কী কারণে এই সাক্ষাৎ, এর পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে-সবার মুখে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে যে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন মনজুর আলম।

এনসিপি থেকে মেয়র পদে মনজুর আলম নির্বাচন করতে চান। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ করতেই সেখানে যান হাসনাত আবদুল্লাহ। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মনজুর আলম।

এ ঘটনার বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক আলাদা এবং তিনি কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্যে সেখানে চা খেতে গিয়েছিলেন।

মনজুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই তাকে দেখতে এসেছিলেন হাসনাত। পরে কুশল বিনিময় ও দুপুরের খাবার খেয়ে তিনি বিদায় নেন।

মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হন। এরপর ২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন মনজুর আলম। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় ‘কারচুপির’ অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কিন্তু এক বছর নীরব থাকার পর তিনি পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট নগরীর উত্তর কাট্টলীর বাগানবাড়িতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করেন। ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে তিনি এ কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

এরপর থেকে বিএনপির সাবেক এই মেয়র নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের আমন্ত্রণ জানান।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি।

মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগের পিছু ছাড়েননি ধুরন্দর ও সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মনজুর আলম। নগরীর উত্তর কাট্টলীতে শেখ রাসেলের নামে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন তিনি। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনজুর আলম বলেছিলেন, ‘আমার বয়স এখন ৭০ বছর। ৫ বছর যদি বাদ দিই, ৬৫ বছর আমি শৈশব থেকে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। আজও আছি, যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কখনো বিএনপির আবার কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।

আরও পড়ুন: মনজুর আলমের রাজনীতির ‘টেকনিক’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর