, | |

মূলপাতা জামায়াতে ইসলামী

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে জামায়াত জোট


জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। পুরোনো ছবি।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:১৭ : অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি জোট। আগামী মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এদিকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

আজ শনিবার নিজের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ- ২ (দিরাই শাল্লা) আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া জামায়াত ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।

একই কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে আসিফ বলেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।

এ ছাড়া, ঢাকা-১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান তার ফেসবুক পোস্টেও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন।

ছায়া মন্ত্রিসভা কী?
বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ মূলত ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থার একটি পরিচিত ধারণা। রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে থাকে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি কাঠামো।

ছায়া মন্ত্রিসভা সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করে। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হল সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।

যুক্তরাজ্যে সরকার বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে, সংসদে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে। অস্ট্রেলিয়াতেও একইভাবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ছায়া মন্ত্রিসভা শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়; এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এতে দলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক কাঠামো, বাজেট এবং নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন। ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল জনগণের কাছে নিজেদের কার্যকর ও প্রস্তুত দলের ইমেজ দেখাতে পারে।

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘটনা আগে ঘটেনি। প্রচলিত কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী উপায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে এই কাঠামো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতি পর্যবেক্ষণ জটিল হয়ে ওঠে।

ছায়া মন্ত্রিসভার এখতিয়ার ও কাজ
বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অপরিসীম। এদের প্রধান কাজগুলো হলো-
১. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
২. বিকল্প বাজেট প্রস্তাব
৩. প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ
৪. ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি।

আরও পড়ুন: ৩০ আসনে ভোট পুনঃগণনা ও শপথ স্থগিত রাখার আহ্বান জামায়াতের

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর