, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪, ববি ও আজমিনার ৭ বছরের কারাদণ্ড


শেখ হাসিনা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও টিউলিপ সিদ্দিক।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:০৪ : অপরাহ্ণ

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় টিউলিপের ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে দুই মামলায়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১৪ জনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ও আফনান জান্নাত কেয়া রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশের এলাকায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের প্লট নম্বর ১১ এবং আজমিনা সিদ্দিকের প্লট নম্বর ১৯।

রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তদন্ত শেষে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

অন্যদিকে, আজমিনা সিদ্দিকের নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তাকেও প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে একই দিনে পৃথক মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এই মামলাতেও তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

ববির প্লট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ও কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) অবসরপ্রাপ্ত মেজর প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) শেখ শাহিনুল ইসলাম, রাজউকের উপ-পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম ও ফারিয়া সুলতানা।

আজমিনার প্লট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) অবসরপ্রাপ্ত মেজর প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের উপ-পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ, সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) কামরুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ঢাকা-১১: বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদের রিট
মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর