বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর শের-এ-বাংলা নগরে জিয়া উদ্যান সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এ সময় দলের তৃণমূলের নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বেগম জিয়ার সমাধিতে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার পাশাপাশি তারা জানান, দেশ গঠনে বেগম জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবেন তারা।
লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্বামী শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এখনো শোকে মুহ্যমান দেশের মানুষ। প্রিয় মানুষটি চিরবিদায় নিলেও তার জিয়ারত করতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজায় মিলিয়নের (দশ লাখে এক মিলিয়ন) বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, এটাই বাংলাদেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা। ৪৪ বছর আগে ১৯৮১ সালের ২ জুন এই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
জানাজা শেষে সংসদ ভবন থেকে লাল-সবুজের পতাকায় মোড়া গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত খালেদা জিয়া
