, | |

মূলপাতা বিএনপি

জনসমুদ্রে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন


খালেদা জিয়ার জানাজায় মিলিয়নের (দশ লাখে এক মিলিয়ন) বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৩:১৫ : অপরাহ্ণ

জনসমুদ্রে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় মিলিয়নের (দশ লাখে এক মিলিয়ন) বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, এটাই বাংলাদেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা।

আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের জনস্রোত চলমান থাকায় সময় পেছানো হয়। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

জানাজার আগে খালেদা জিয়ার একমাত্র ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এবং মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। খালেদা জিয়ার আচরণে কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

জনসমুদ্রে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা জানাজায় অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

জনসমুদ্রে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

দুপুর ১২টা বাজার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জানাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ৪৪ বছর আগে ১৯৮১ সালের ২ জুন এই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

জানাজায় পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে।

এর আগে আজ বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসা হয়। সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে তার মরদেহ আনা হয়।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ছেলে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। তারও আগে সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে গুলশানে নেওয়া হয়। শুরুতে তার দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা থাকলেও পরে গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বেলা ১১টা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার স্বজন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার জানাজা: কানায় কানায় পূর্ণ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর