, | |

মূলপাতা জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে ভারতের নসিহত অগ্রহণযোগ্য, কড়া বার্তা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৮:০৪ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের উপদেশ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। প্রতিবেশী দেশটির উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জানে, কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হয়। ভারতের নসিহতের দরকার নেই।’

আজ বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন।

গত রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা আশা করি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনসহ অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।’

এ প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সর্বশেষ যে বক্তব্য তাদের এসেছে, তাতে কিছু নসিহত করা হয়েছে আমাদের। আমি মনে করি না যে, এটার কোনো প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, এটা নিয়ে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। আমরা, এই সরকার, ডে ওয়ান থেকে স্পষ্টভাবে বলে আসছে যে, আমরা একটা অত্যন্ত উচ্চমানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই-মানুষ যেন গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ, যা গত ১৫ বছর ছিল না। এখন ভারত আমাদের এটা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছে-এটা আমি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মনে করি।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘তারা (ভারত) জানে যে এর আগে ১৫ বছর ধরে যে সরকার ছিল, যে সরকারের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল, তখন কিন্তু এই যে নির্বাচনগুলো প্রহসনমূলক হয়েছে, তখন তারা একটু শব্দ উচ্চারণ করেনি। এখন সামনে একটা ভালো নির্বাচনের দিকে আমরা যাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমাদের নসিহত করার তো কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা জানি, আমরা কী করবো। আমরা একটা ভালো নির্বাচন করবো, যেটাতে মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং তারা যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে। যেটা এর আগে গত ১৫ বছরে ঘটেনি। তো এই জিনিসটা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

 

ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কে টানাপড়েন আছে জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন ছিল এটা মেনে নিয়েই আমরা বলে আসছি, একটা ভালো কাজের পরিবেশ চাই। দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ককে এগোনোর চেষ্টা করতে হবে। এই ইস্যু নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি, এ ব্যাপারে আমরা যা কিছু বলেছি, তারা গ্রহণ করেনি। তাদের কিছু দ্বিমত আছে এই বিষয়ে। একইভাবে আমাদের হাইকমিশনারকেও তারা ডেকেছে। এটা খুব অপ্রত্যাশিত না, এটা ঘটে। একজনকে ডাকলে, আরেকজনকে ডাকা হয়।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন। এ দিনটিকে তিনি ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন। এই পোস্টে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় নিয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা সবসময় মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। কলকাতায় অন্যভাবে পালন করে। তারা মনে করে, যুদ্ধ করে তাদের সেনাবাহিনী বিজয় অর্জন করেছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা বিজয় অর্জন করেছে। মুক্তিযোদ্ধারদের সহায়তা ছাড়া এই বিজয় অর্জন করা যেতো না।’

আরও পড়ুন: জুলাই ঐক্যের ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি, পুলিশের বাধা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর