, | |

মূলপাতা বিএনপি

শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পুরোনো ছবি
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০৭ : অপরাহ্ণ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর বলা হলেও রাতে জানানো হয়, তা পরিবর্তন করে ৯ ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে এই তারিখও চূড়ান্ত নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে সময় আরও পেছাতে পারে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তার শারীরিক অবস্থায় বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় লন্ডনযাত্রার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে তার অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, সেটিরও সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতে ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় অবতরণ করার কথা থাকলেও নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় নামবে।

এর আগে কাতারের আমীরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে জার্মানি থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে কাতার সরকার।

ঢাকায় কাতার দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকায় কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ গণমাধ্যমকে বলেন, কাতার সরকার জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকায় পাঠাচ্ছে। চিকিৎসক এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সময় সমন্বয় করে ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে যাত্রাকারী দলের সংখ্যা কমানো হবে। বিএনপি শুরুতে ১৮ জনের তালিকা করলেও অগ্রাধিকারভিত্তিতে সীমিত সংখ্যক মানুষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভ্রমণ করবেন। বাকি ব্যক্তিরা প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাবেন।

এদিকে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান। তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে শাশুড়ির সঙ্গেই সময় কাটান। সেখানে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় থাকার পর তিনি ধানমন্ডিতে পৈতৃক বাসায় যান। রাতে আবার হাসপাতালে ফিরে এসে অবস্থার খোঁজখবর নেন।

গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১ ডিসেম্বর তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।

 

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার জন্য জার্মানি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে কাতার

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর