আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে। এ জোটে এনসিপির সঙ্গে থাকছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। তবে এই জোটে যুক্ত করতে দর কষাকষি চলছে গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-রব) এবং গণতন্ত্র মঞ্চে থাকা কয়েকটি দলের সাথেও।
আজ বুধবার দলগুলোর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গণমাধ্যমের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, নতুন জোট গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত। আজ অথবা আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।
জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন এই জোটের নাম হতে পারে জুলাই জোট বা গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট কিংবা তৃতীয় ধারার সমমনা জোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজিবিরোধী অবস্থান নতুন জোটের লক্ষ্য।
জোটের শরীক নেতারা জানান, জোট গঠনের পাশাপাশি বড় দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
যোগাযোগ করা হলে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন জোট গঠন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, নতুন জোট গঠন নিয়ে একটা আলোচনা চলছে। আজ সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সিদ্ধান্ত হলে আমরা গণমাধ্যমে জানাবো।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, চার দলের জোট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আজকালের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। রাতেও সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, জোটের আলাপে এখন পর্যন্ত আমরা চারটা দল একটা জায়গায় পৌঁছেছি। এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এনসিপির সঙ্গে আমরা প্রায় একমত হয়েছি। এটা এখনো পজিটিভ আছে। অন্যান্য আরও দুয়েকটা দলের সঙ্গেও আলাপ চলছে। তবে আমাদের চার দলের ব্যাপারটা প্রায় চূড়ান্ত। আজকেই একটা প্রেস ইনভাইটেশন যেতে পারে। সন্ধ্যার দিকে হয়ত চূড়ান্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম কে বলেন, জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে, চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলা যায়। কালকেই হয়ত জানানো যেতে পারে।
জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-রব) এবং গণঅধিকার পরিষদও যুক্ত হতে পারে বলে জানান হাসনাত কাইয়ুম।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আগামীকালকে সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের চার পার্টির আলোচনা মোটামুটি চূড়ান্ত। আজকালের মধ্যেই আপনারা সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর নির্বাচন নিয়ে জোট গঠন দিয়ে বাংলামোটরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছে এনসিপির জাতীয় কমিটি। ৬ ঘণ্টার ওই বৈঠকে এনসিপির বেশিরভাগ নেতাই বিনা জোটে নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। তবে বৈঠকে এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের মতো সমমনা দলগুলোকে নিয়ে তৃতীয় একটি ফ্রন্ট গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
অক্টোবরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আ স ম আবদুর রবের বাসভবনে এনসিপির সিনিয়র নেতারা এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও ছয় দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে কেমন আছেন খালেদা জিয়া, সবশেষ যা জানা গেলো
