নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বীকৃতি পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে জাতীয় পার্টির দুটি পক্ষ। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জি এম কাদের, অপর পক্ষের নেতৃত্বে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। জাতীয় পার্টির দাবিদার দুপক্ষই নিজেদের স্বীকৃতি দিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছে।
আজ সোমবার জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম পক্ষের দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে চেয়ারম্যান এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুরনো তথ্য ইসির ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
একদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনকে আনিসুল ইসলাম পক্ষের লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় কাউন্সিল যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কাউন্সিলে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ওই কাউন্সিল-সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়োজনীয় নথি ও দলিলপত্র যথাযথভাবে নির্বাচন কমিশনে ইতোমধ্যে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু একাধিকবার আবেদন ও অনুরোধ সত্ত্বেও এখনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুরনো তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর ফলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম যথেষ্ট বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
এই অবস্থায়, জাতীয় পার্টির নিবন্ধন নম্বর ১২ এবং প্রতীক লাঙ্গল-সংবলিত নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের নাম যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অপরদিকে জি এম কাদের পক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখতে গতকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।
সাক্ষাৎ শেষে প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, জাতীয় পার্টির নিবন্ধন ও প্রতীক দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নামেই বহাল থাকবে।
জাতীয় পার্টি গঠনের পর ছয়বারের মতো দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে। এরশাদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী রওশন এরশাদপন্থী, জিএম কাদেরপন্থীদের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। মাঝে বিদিশা এরশাদের আওয়াজও শোনা যায়।
তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় জি এম কাদেরকেই লাঙ্গল দেয় ইসি। বর্তমানে রওশন এরশাদ ও বিদিশা এরশাদপন্থীর কোনো সাড়াশব্দ না থাকলেও আবার শুরু হয়েছে লাঙ্গল নিয়ে টানাটানি।
জাতীয় পার্টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশনও। লাঙ্গল কে পাবে-এমন প্রশ্নে সিইসি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির নাম শুনলে আমি কনফিউজড হয়ে যাই। ওখানে হাফ ডজন আছে।’
লাঙল নিয়ে অতীতেও লড়াই হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারে থাকা না থাকা প্রশ্নে ১৯৯৯ সালে ভাঙে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি (জেপি) গঠন করা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু লাঙল প্রতীক দাবি করেন। তবে আদালতের রায়ে লাঙল এরশাদেরই রয়ে যায়।
২০২৩ সালের সংসদের উপনির্বাচনের সময়ে নিজের মনোনীত প্রার্থীকে লাঙল প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। পরের বছরের মার্চে কাউন্সিল করে তার নেতৃত্বে আরেকটি জাতীয় পার্টি গঠিত হয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি কি ভারতের কোনো রাজনৈতিক দল, প্রশ্ন রিজভীর
