রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন ব্যবসায়ী নেতা আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই। চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে তিনি প্যানেল নিয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন। চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হলে তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে নামতে পারেন বলে ব্যবসায়ী মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
আমজাদ হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রামের এক সময়ের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার গ্রামের বাড়ি সীতাকুণ্ডে হলেও শ্বশুর বাড়ি নগরীর গোসাইলডাঙ্গায়।
আমজাদ হোসেন চৌধুরী ২০১৩ ও ২০১৫ সালে চেম্বারের নির্বাচনে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১০ বছর পর তিনি এবার একক প্যানেল নিয়ে চেম্বারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আমজাদ হোসেন চৌধুরী একজন ‘হেভিওয়েট ব্যবসায়ী নেতা’ হিসেবে পরিচিত। চেম্বারের ২০১৩ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। এবার তিনি একক প্যানেল নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। গত এক বছর ধরে তিনি নীরবে চেম্বার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে তিনি নির্বাচনে ‘বাজিমাত’ করতে পারেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর দেশের শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠনে চিটাগাং চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
চেম্বার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, আমজাদ হোসেন চৌধুরী তার অবস্থান জানান দিতেই একক প্যানেল নিয়ে চেম্বারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যদি তিনি চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হন তাহলে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তার বড় ভাই আসলাম চৌধুরী বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে এই দল থেকে তিনি মনোনয়ন চাইতে পারেন।
এসব ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যদি চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে মনোনয়ন না চান সেক্ষেত্রে আমজাদ হোসেন চৌধুরী এই আসনে নজর দিতে পারেন।
বিএনপির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এই আসনে আমীর খসরু নির্বাচন না করলে তার ছেলে ইসরাফিল খসরু মনোনয়ন চাইবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাওয়ার মতো যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে হয় না। তবে আমি নিজেকে চেম্বারের সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখি। চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করার মতো অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন। আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান বটে। আমার ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি রাজনীতি নিয়ে কোনো চিন্তা করছি না। তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে জড়াবো কিনা সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন।’
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবার চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দলের হাইকমান্ড থেকে তিনি হয়তো গ্রিন সিগন্যালও পেয়েছেন। যে কারণে তিনি এই আসনে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম-১১ আসন চষে বেড়াচ্ছেন তার ছেলে ইসরাফিল খসরু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাফিল খসরু রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে আমি এখনোে কোনো চিন্তা করিনি। আমার বাবা জাতীয় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি ওই এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছি।’
উল্লেখ্য, আমীর খসরুর পৈতৃক বাড়ি হলো নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায়। তিনি ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বন্দর-পতেঙ্গা (তখন ছিল চট্টগ্রাম-৮) আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আমীর খসরু পরাস্ত করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. আফছারুল আমীনকে। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী হয়েছিলেন আমীর খসরু।
ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি পদকে সংসদ সদস্য হওয়ার ‘সহজ সিঁড়ি’ হিসেবে দেখছেন। এ পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ছয় ব্যবসায়ী নেতা চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি হওয়ার পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
২০০৮ সালে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এম এ লতিফ। চেম্বারের সভাপতি হওয়ার পর কপাল খুলে যায় তার। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বন্দর-পতেঙ্গা আসনে রাতারাতি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে যান তিনি। রাজনীতির মাঠে অনভিজ্ঞ এই ব্যবসায়ী নেতা সবাইকে চমকে দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট বিএনপি নেতাকে পরাস্ত করে এমপি হয়ে যান।
এর আগে ১৯৮৮ সালে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি হয়ে কপাল খুলে গিয়েছিলো আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বন্দর-পতেঙ্গা আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য হয়েছেন আরও চার ব্যবসায়ী নেতা। এরা হলেন-প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, তার ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ও বিএনপি নেতা সরওয়ার জামাল নিজাম। এই তিন নেতা আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া চেম্বারের সভাপতি হওয়ার পর বাঁশখালী আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।
আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লো টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ
৩১ আগস্ট রাতে কী হয়েছিলো চিটাগাং চেম্বারে?
