অবশেষে খোঁজ মিললো নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির। তিনি এখনো নেপালেই রয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় শিবপুরী এলাকায় রয়েছেন অলি। সেখান থেকে জেন জি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন।
আজ বুধবার নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘খবরহাব’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিজ দলের মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অলি। সেখানে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন ওলি।
তিনি বলেছেন, যদি আমি লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে প্রশ্ন না তুলতাম এবং অযোধ্যা ও দেবতা রাম নিয়ে কথা না বলতাম তাহলে আমি হয়ত ক্ষমতায় থাকতাম। আমি ক্ষমতা হারিয়েছি কারণ অযোধ্যতায় দেবতা রামের জন্ম হয়েছে এই দাবির বিরোধীতা করেছিলাম।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুলাইয়ে কেপি শর্মা ওলি বলেছিলেন, দেবতা রাম ভারতে নয় নেপালে জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, “রামের অযোধ্যা রাজ্য নেপালের পূর্ব বীরগঞ্জে অবস্থিত। ভারত আরেকটি ভুয়া অযোধ্যা তৈরি করেছে।”
তিনি ওই সময় বলেন, দেবতা রাম সীতাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ভারতে জন্ম নেওয়া রাম কীভাবে নেপালের জনকপুরের সীতাকে বিয়ে করেছিলেন।
প্রাচীন আমলে দূরের স্থানে বিয়ের প্রচলন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন ওলি। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে সীতা ভারতের রামকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু রাম ভারতীয় নয় নেপালি ছিলেন।”
১৯৯৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে কে পি শর্মা অলি বলেন, তার আমলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। শান্তির পক্ষে নিজের আজীবন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে অভিযোগ করেন, তরুণদের ব্যবহার করে বর্তমান বিক্ষোভকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ হঠাৎ ঘটে যায়নি; তোমাদের নিষ্পাপ মুখগুলোকে ভ্রান্ত রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।
অলি আবারও দৃঢ়ভাবে নেপালের দাবিকৃত লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার প্রসঙ্গ তোলেন এবং বলেন, নাগরিকদের কথা বলার, চলাফেরার ও প্রশ্ন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা-এটাই তার জীবনের উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: নেপালের পর ভারতে আন্দোলন শুরু
