আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচনের বিকল্প কেউ কিছু ভাবলে সেটা জাতির জন্য ‘গভীর বিপজ্জনক’ হবে।
আজ রোববার রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন সে সময়ের মধ্যে হবে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রধান উপদেষ্টা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতির উদ্দেশে তার দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করেছেন সেই সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন হবে। সব দলকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টা শুনেছেন।
নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে, বিএনপিকে আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক ‘ফলপ্রসূ হয়েছে’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আশঙ্কা করার কোনো কারণ নেই।’
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে জামায়াতের শঙ্কা

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘কিছু দল ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন সংস্কার আগামী নির্বাচিত সরকার করবে। তারাই যদি করে তাহলে এক বছর সময় নষ্ট করলাম কেন? জুলাইয়ের পর অনেক পরিবর্তন চেয়েছিলাম সেটা যেন আইনি প্রক্রিয়ায় হয়। এটা না হলে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।’
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি এনসিপির

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে একের পর এক অবৈধ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়া এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের পক্ষে ঝাণ্ডা ধরার অভিযোগ এনে এই দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৈঠকের পর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সাজা দেওয়া বিচারপতির পদত্যাগ
