রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন। রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল হক নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তার দলের নেতাকর্মীরা।
আজ শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা জানান, নুরের মাথা ফেটে গেছে। তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আজ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। তৎক্ষণাৎ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ঘটনাস্থল ছাড়তে ১০ মিনিট সময় দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাদের বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এসময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অনেকেই আহত হন।
ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের নেতৃত্বে বিজয়নগর হয়ে মিছিল নিয়ে কাকরাইলের দিকে যাচ্ছিলো। এ সময় জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সময় আতঙ্কে পথচারীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয়পক্ষের কর্মীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে।
পরে পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, দলের আহত কর্মীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ গণমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে তারা পল্টন জিরো পয়েন্ট থেকে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ওই মুহূর্তে সেখানে ৩০০–৪০০ লোক উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরাও ছিল বলে ধারণা করছেন তারা।
জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, আজকে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে পার্টির পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সভা ছিল। এর মধ্যে নুরের দলের লোকজন মিছিল নিয়ে এসে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে। আমরাও প্রতিরোধ করেছি। আমাদের ১০-১২ জন লোক আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তারে ‘ভাষাহীন’ ফজলুর রহমান!
