কারাগারে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আকতার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অসুস্থতা বোধ করায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (খায়রুল হক) আমাদের কার্ডিয়াক ইউনিটের সিসিইউতে আছেন। চিকিৎসকরা ওনাকে দেখছেন।’
এর আগে, গত ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এর মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতিকে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার ও জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, বিতর্কিত রায় এবং সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থাকাকালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে সাংবিধানিক শূন্যতার সূচনা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে করা পঞ্চম সংশোধনী বাতিল, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের করা সপ্তম সংশোধনী বাতিল, বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকৃতি, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের সরকারি আদেশকে বৈধতা দেওয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি নিয়ে দায়ের করা লিভ টু আপিল না শুনেই উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেওয়া এবং দৈনিক আমার দেশের সম্পাদককে সাজা দেওয়ার আদেশ আসে।
২০১১ সালের ১৭ মে খায়রুল হক অবসরে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে আর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: কাঠগড়ায় মাথা নিচু করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক
