অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও মামলা প্রত্যাহারের পর আবার জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে ফিরেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোবায়েত ফেরদৌস এই আদেশ দেন।
আজ বুধবার জিএম কাদেরের আইনজীবী মনোয়ার হোসাইন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ২ আগস্ট মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ৩০ জুলাই জাতীয় পার্টির সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলটির সাবেক শীর্ষ ১০ নেতা এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জি এম কাদের ও মাহমুদুল আলমের দলীয় কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জনের প্রাথমিক পদসহ সাংগঠনিক পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আদালতের এই আদেশের পর ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করে জি এম কাদেরের বিরোধী অংশ। এরপর তিনি সম্মেলন আহ্বান করেন।
গত ৯ আগস্ট ব্যারিস্টার আনিসের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা জাতীয় সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয় আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে এবং মহাসচিব করা হয় রুহুল আমিন হাওলাদারকে। পাশাপাশি সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাজী ফিরোজ রশিদ এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু।
তবে জি এম কাদেরের অংশ নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে।
গত চারটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নিয়ে স্বৈরাচারের দোসর তকমা পাওয়া গত তিন সংসদে জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটি তার জীবদ্দশায় চারবার ভাঙে। ২০১৯ সালে জি এম কাদের দলের নেতৃত্বে আসার পর এটি আরও একবার ভাঙে।
গত বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর রওশন এরশাদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা একই নামে দল করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর জি এম কাদের সমর্থন করেন অন্তর্বর্তী সরকারকে।
কিন্তু অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের প্রবল আপত্তির মুখে সরকারি বৈঠকে জাপাকে ডাকা বন্ধ করা হয়। স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে জাপার কার্যালয়-কর্মসূচিতেও হামলা হয়। এরপর জি এম কাদের সরকারের সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হন।
আরও পড়ুন: আবার ভাঙলো জাতীয় পার্টি
