নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়ানোর পর ষষ্ঠবারের মতো ভাঙলো জাতীয় পার্টি (জাপা)। জিএম কাদের অংশের আপত্তির মুখে কাউন্সিল করে নতুন কমিটি করেছে জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা। কাউন্সিলে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই কাউন্সিলে সারাদেশ থেকে আগত প্রায় দুই হাজার কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে তারা নির্বাচিত হন।
কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারম্যান হিসেবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব হিসেবে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নাম ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটিতে কাজী ফিরোজ রশিদকে সিনিয়র কো. চেয়ারম্যান ও মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (জেপির) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্ন।
জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়ানোর পর দলটি ষষ্ঠবারের মতো ভাঙলো। যদিও জি এম কাদের নিযুক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এ কাউন্সিলকে অবৈধ আখ্যা দেন।
গত ৭ জুলাই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
এরপর গত ৩০ জুলাই ঢাকার একটি নিম্ন আদালত জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করে জি এম কাদেরের বিরোধী অংশ। এরপর তিনি সম্মেলন আহ্বান করেন।
গত চারটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নিয়ে স্বৈরাচারের দোসর তকমা পাওয়া গত তিন সংসদে জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটি তার জীবদ্দশায় চারবার ভাঙে। ২০১৯ সালে জি এম কাদের দলের নেতৃত্বে আসার পর এটি আরও একবার ভাঙে।
গত বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর রওশন এরশাদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা একই নামে দল করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর জি এম কাদের সমর্থন করেন অন্তর্বর্তী সরকারকে।
কিন্তু অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের প্রবল আপত্তির মুখে সরকারি বৈঠকে জাপাকে ডাকা বন্ধ করা হয়। স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে জাপার কার্যালয়-কর্মসূচিতেও হামলা হয়। এরপর জি এম কাদের সরকারের সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হন।
আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টির ৩ শীর্ষ নেতাকে অব্যাহতি
