, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

মেজর সাদেকের স্ত্রী জাফরিনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিলো পুলিশ


সুমাইয়া জাফরিন
প্রকাশের সময় :৭ আগস্ট, ২০২৫ ৩:০৮ : অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের ঘটনায় মেজর সাদেকুল হক সাদেকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এর আগে আজ দুপুরে সুমাইয়া জাফরিনকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে পুলিশ।

আসামির আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে সুমাইয়া জাফরিনকে আটক করে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ((ডিবি) একটি টিম। পরে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

গত ৮ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন একটি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মিলে ৩০০-৪০০ জন লোককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের দুই দিন আগেই একটি টোকেন সরবরাহ করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন মেজর সাদেক।

গত ১৭ জুলাই অভিযুক্ত এই সেনা কর্মকর্তাকে রাজধানীর উত্তরা এলাকার বাসা থেকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

গত ১ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।

কয়েকদিন আগে মেজর সাদিকুলের স্ত্রী সুমাইয়া পুলিশের এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। পরে গত ২ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এই নামে তাদের কোনো এএসপি নেই। পরে বুধবার সুমাইয়াকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।

এদিকে এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। মামলার পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলটির অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরাসংলগ্ন কে বি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা মিলে ৩০০-৪০০ জন লোক অংশ নেন। তারা সেখানে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।

বৈঠকে পরিকল্পনা করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার পর সারাদেশ থেকে লোকজন এসে ঢাকায় সমবেত হবেন। তারা শাহবাগ মোড় দখল করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবেন। তারা সেখানে এসব ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

সরকার উৎখাতের এ পরিকল্পনার বিষয়টি কলকাতায় বসে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া সরকার উৎখাতের এই পরিকল্পনায় কৌশলগত সহযোগিতা করেন দিল্লিতে অবস্থান করা পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং এসএসএফের সাবেক প্রধান পলাতক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া কে এই মেজর সাদেক?

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর