চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের সময় দোকানের এক কর্মচারীকে হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এতে সাবেক তিন মন্ত্রীসহ মোট ২৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে গত বছর জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, তারমধ্যে এটিই প্রথম মামলা যাতে চার্জশিট দাখিল করা হলো।
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিতে নিহত হন শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৭)। তিনি স্থানীয় একটি জুতার দোকানে কর্মরত ছিলেন। নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম ওই বছরের ১৫ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল হক চলতি বছরের ৩০ জুলাই আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে চার্জশিট জমা দেন। গতকাল শুক্রবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
চার্জশিটটি জমা দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে। আগামী ২৫ আগস্ট মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন–সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ সালাম ও নোমান আল মাহমুদ, যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুনসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সাবেক কাউন্সিলর, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
চার্জশিটে ১২৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন বিকেলে শহিদ কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই সময় আন্দোলনকারীরা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ষোলশহর এলাকার বাসভবন ও তৎকালীন সিটি মেয়রের বহদ্দারহাটের বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, দোকানের কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহিদ পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুলিতে নিহত হন।
তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা কেবল টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে, গুলি চালায়নি। মেয়রের বাসায় নিরাপত্তা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম কারাগার থেকে হাজতির পলায়ন: তদন্ত প্রতিবেদন ‘ধামাচাপা’
