, | |

মূলপাতা দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জে সর্বশেষ পরিস্থিতি কী


কারফিউ জারির পর থেকে গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাট অনেকটা জনমানব শূন্য।
প্রকাশের সময় :১৭ জুলাই, ২০২৫ ১২:০৮ : অপরাহ্ণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালগঞ্জে কারফিউ চলছে। আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার রাতের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য।

গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কারফিউ আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোপালগঞ্জে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

সকালে শহরের কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কারফিউ জারির পর থেকে গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাট অনেকটা জনমানব শূন্য। অনেক জায়গায় এখনো পড়ে আছে ইটপাটকেল, বাঁশ, ভাঙা তোরণ ও কেটে ফেলা গাছ। এগুলো যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। কারফিউ সত্ত্বেও আজ সকাল থেকে কিছু মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে সড়কে চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে অফিসগামী মানুষ ছাড়া বেশির ভাগ মানুষই ঘর থেকে বের হননি।গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট, গোপালগঞ্জ-ব্যাশপুর ও গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বা সেনাবাহিনীর তেমন কোনো টহল চোখে পড়েনি, যদিও কিছু স্থানে আনসার সদস্যদের দেখা গেছে।

 

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরের পরিবেশ এখনো থমথমে।

গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তবে থমথমে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে মাদারীপুর যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ। সদর উপজেলার কংশুরে পুলিশ ও ইউএনওর গাড়ি, পৌর পার্কের সমাবেশস্থল, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, এমনকি জেলা কারাগারের চারপাশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করে সরকার।

ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগসহ রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা বিভিন্ন মসজিদে ঢুকে মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন: হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা করেছে মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা: নাহিদ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর