, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

এবার ইরানের ৩ পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা


প্রকাশের সময় :২২ জুন, ২০২৫ ৭:১৮ : পূর্বাহ্ণ

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌন ৬টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিও তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

হামলার পর ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের ফোর্দো, নাতানঞ্জ এবং ইস্পাহানে পরমাণু স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলো হলো ফর্দ, নাতানঞ্জ এবং ইস্পাহান। হামলায় অংশ নেওয়া সব বিমান এখন ইরানি আকাশসীমার বাইরে রয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ফোর্দো স্থাপনায় ‘পূর্ণ শক্তির বোমা হামলা’ চালানো হয়েছে এবং সব মার্কিন বিমান এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছে।

ট্রাম্প আরও লিখেন, আমরা ফোর্দোতে মূল লক্ষ্যবস্তুতে সম্পূর্ণ পরিমাণ বোমা ফেলে সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। আমাদের মহান আমেরিকান যোদ্ধাদের অভিনন্দন! পৃথিবীতে আর কোনো সেনাবাহিনী নেই যারা এই কাজ করতে পারতো। এখনই শান্তির সময়। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলি শাসনের আগ্রাসী যুদ্ধে জড়ানোর বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের সঙ্গে এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা ‘সবার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হবে।

ইউরোপীয় কূটনৈতিকদের সঙ্গে জেনেভায় আলোচনার পর ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি।

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে তা তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন এক টেলিভিশন ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিও যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে আমেরিকা ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দিনগত রাত হঠাৎ ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।

হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ ও দশজন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ ৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩ নামে’ অভিযান শুরু করে ইরান। তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ভেদ করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে হতাহত কম হলেও ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের হামলার ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ইহুদিবাদীরা। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এখনও চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তরসূরি হিসেবে ৩ জনের নাম নির্ধারণ করলেন খামেনি

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর