, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

উত্তরসূরি হিসেবে ৩ জনের নাম নির্ধারণ করলেন খামেনি


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
প্রকাশের সময় :২১ জুন, ২০২৫ ৯:১৭ : অপরাহ্ণ

চলমান সংঘাতের মধ্যে উত্তরসূরি হিসেবে তিনজন ধর্মীয় নেতাকে নির্বাচন করে রেখেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

আজ শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।

ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতা (খামেনি) জানেন যে ইসরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি একটি অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় সংস্থা, অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসকে তিনটি নাম জানিয়েছেন খামেনি। এরমধ্যে থেকে একজনকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, খামেনির প্রস্তাব করা তিনটি নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে, দেশটির কর্মকর্তারা জানান, সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি প্রার্থীদের মধ্যে আলী খামেনির ছেলের নাম নেই।

ইরানে একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগের প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মাস ধরে চলে। ধর্মগুরুরা তাদের নিজস্ব তালিকা থেকে নাম বেছে নেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটি যেহেতু এখন যুদ্ধে লিপ্ত, তাই খামেনি চান তার উত্তরাধিকার ঠিক রাখতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করতে।

জরুরি যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত তিন জন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনি ইলেকট্রনিক যোগাযোগ স্থগিত করেছেন এবং সনাক্তকরণ এড়াতে একজন বিশ্বস্ত সহকারীর মাধ্যমে কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলছেন।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা এখন একটি বাঙ্কারে সময় কাটাচ্ছেন। তাকে হত্যা করার জন্য ইসরায়েলি হুমকির মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের উদ্ধৃত করা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, খামেনি বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েল অথবা আমেরিকা তাকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সামরিক কমান্ডারদের ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দিনগত রাত হঠাৎ ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।

হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ ও দশজন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ ৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩ নামে’ অভিযান শুরু করে ইরান। তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ভেদ করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে  হতাহত কম হলেও ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের হামলার ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ইহুদিবাদীরা। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এখনও চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে তার ভুলের জন্য শাস্তি পেতে হবে, ‘কঠোর বার্তা’ খামেনির

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর