যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে একাধিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান। এই বিমানগুলো এমন বিশাল ও শক্তিশালী বোমা বহনে সক্ষম, যা ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম। অবশ্য এটি ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি, নাকি তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল-তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্যের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরির হুইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে একাধিক বি-২ বোমারু বিমান উড্ডয়ন করেছে। কিছু ফ্লাইট ট্র্যাকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাচ্ছে, বোমারু বিমানগুলো গুয়ামের উদ্দেশে যাচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা আছে। তবে, নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্য নিশ্চিত হতে পারেনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বি–২ বোমারু বিমানগুলো ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করা হয়েছে। দিয়েগো গার্সিয়াতে এই বিমানগুলো মোতায়েনের মানে হলো, এই ঘাঁটি থেকে উড়ার পর একবার মাত্র জ্বালানি নিয়ে (রিফুয়েলিং) বোমারু বিমানগুলো ইরানে হামলা চালাতে পারবে।
বি-২ বোমারু বিমানগুলো ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা বহনে সক্ষম, যা ইরানের ভূগর্ভস্থ ফর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
এদিকে ইতিমধ্যে ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে রহস্য রেখে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দিনগত রাত হঠাৎ ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।
হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ ও দশজন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ ৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩ নামে’ অভিযান শুরু করে ইরান। তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ভেদ করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে হতাহত কম হলেও ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের হামলার ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ইহুদিবাদীরা। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এখনও চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: উত্তরসূরি হিসেবে ৩ জনের নাম নির্ধারণ করলেন খামেনি
