বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৮ রমজান, ১৪৪৭

মূলপাতা জাতীয়

মিয়ানমার থেকে রাষ্ট্রদূতকে ফেরার নির্দেশ, নানা প্রশ্ন


মিয়ানমারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. মনোয়ার হোসেন।

রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ২৭ মে ২০২৫, ১১:২৪ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেনকে ‘অনতিবিলম্বে’ দায়িত্ব ত্যাগ করে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে ঠিক কী কারণে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফেরানো হচ্ছে, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন মিয়ানমারে দু’বছরের কম সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে মিয়ানমার থেকে ফিরে আসার আদেশের সঙ্গে করিডর নিয়ে চলমান বিতর্কের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের আগেস্ট মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন ড. মো. মনোয়ার হোসেন। তখন তিনি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্বে ছিলেন।

গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র সচিব পদে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। বহুল আলোচিত সচিব জসীম উদ্দিন নিজে থেকে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। যদিও তার বিদায়ের গুঞ্জন ছিল আগে থেকে। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব করা হয়েছে সিনিয়র কর্মকর্তা (১১তম ব্যাচ) রুহুল আলম সিদ্দিককে। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও সদর দপ্তরে কাজের গতি আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ ক’জন রাষ্ট্রদূতকে ফেরানোর কথা প্রচার করা হয়। বলা হয়, তাদের দিয়ে অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিবের শূন্যপদ পূরণ করা হবে! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের তরফে যা প্রচার করা হোক না কেন, পারসেপশন অন্য কিছু।

 

‘মন্ত্রণালয়ে দক্ষ কর্মকর্তা প্রয়োজন, সেই তাগিদ থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হবে’ মর্মে প্রচারিত ন্যারেটিভ-এর কাউন্টার এসেছে এভাবে-মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা, তিনি যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার। তাকে ফিরিয়ে এনে অতিরিক্ত সচিবের চেয়ারে বসানোর যুক্তি এখানে খাটে না। তাছাড়া তার সিনিয়র আরও অনেকে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পোস্টিংয়ে রয়েছেন। তাদের না ফিরিয়ে কেবলমাত্র মিয়ানমার দূতকে ফেরানোর বিষয়টি রহস্যময়।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে মনোয়ার হোসেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পান। তিনি নেইপিডোতে সাবেক রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ২০তম বিসিএসে ফরেন সার্ভিস ক্যাডারে যোগ দেন তিনি।

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ক্ষিপ্ত হয় জান্তা সরকার। এ নিয়ে জেনারেল মিন অং লাইয়ের সরকার ঢাকায় কূটনৈতিক পত্র দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

এরপরই চলতি মাসের মাঝামাঝিতে মিয়ানমারের ইয়াংগুনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা শাখায় কর্মরত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আফতাব হোসেনকে জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পুনরায় চালু হচ্ছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর, শঙ্কিত ভারত

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর