, | |

মূলপাতা জাতীয়

পাকিস্তানি হাইকমিশনারের হঠাৎ ঢাকা ত্যাগ, কূটনৈতিক পাড়ায় নানা গুঞ্জন


পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ
প্রকাশের সময় :১৩ মে, ২০২৫ ১০:০২ : পূর্বাহ্ণ

ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় এবার পাকিস্তানি হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফকে নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন ‍উঠেছে। অনেকেই বলছেন তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে গিয়েছেন। অনেকের দাবির দুই সপ্তাহের জন্যে তিনি ছুটিতে গিয়েছেন। তবে ইতোমধ্যেই তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন।

গত রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দুবাই হয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন সৈয়দ আহমেদ মারুফ। এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। বলা হচ্ছে, গত ৯ মে তিনি কক্সবাজার সফরকালে তাকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি তলব করে।

বাংলাদেশের রাজনীতির এমন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের মতো এমন উর্বর সময়ে আহমেদ মারুফ দেশ ত্যাগ কেন করলেন তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। গত নয়মাসে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, মিটিং করেছেন, কথাও বলেছেন গণমাধ্যমে এবং এর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাহলে কেন তাকে জরুরি তলব?

কূটনৈতিক পাড়ায় চাওর আছে, আহমেদ মারুফ সম্পর্কে জড়িয়ে পরেছেন এক বাংলাদেশি সরকারি নারী কর্মকর্তার সঙ্গে। এ তথ‍্যের সম্পূর্ণ সত‍্যতা যদিও মেলেনি, তবে পাক হাইকমিশনার সম্প্রতি কক্সবাজার ভ্রমণের সময় যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে দেখা গেছে ওই নারীকেও।

সূত্র জানায়, হাইকমিশনার কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত হোটেল সি-পার্লে ওঠেন। সেখানে সেই নারীসহ সঙ্গে ছিলেন বন্ধু আজহার মাহমুদ। ৯ মে নিজ গাড়ি করে বন্ধু ও সেই নারীকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান সৈয়দ আহমেদ মারুফ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারে অবস্থান করা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নের মুখে পড়েন তারা। তখন তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার গিয়েছেন।

কে এই নারী
সূত্র বলছে, সেই নারী ঢাকার ঝিগাতলায় একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। সেখানে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ও তার বন্ধু আজহার মাহমুদের যাতায়াত রয়েছে। এ ছাড়া এ নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে একাধিক ছবি ছিল, যা এখন আর নেই। জানা যায়, তাদের সফরটি গোপন রাখতে হাইকমিশনার ও তার বন্ধু একসঙ্গে টিকিট কেটেছেন এবং সেই নারী আলাদাভাবে টিকিট কেটে ভ্রমণ করেছেন। এই নারী ২৩তম ব্যাচের বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হাফিজা হক শাহ। তিনি বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগে কর্মরত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাফিজা হক শাহ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আমার পূর্বপরিচিত। বিভিন্ন সময় তার অনুষ্ঠানেও গিয়েছি। আমি তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ করিনি। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও অনেক দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেই আমার যোগাযোগ রয়েছে।

কক্সবাজারে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আমার কাজিনদের নিয়ে ব্যক্তিগত ভ্রমণে কক্সবাজার গিয়েছি। রাষ্ট্রদূত তার পরিবারের লোকজন নিয়ে গিয়েছেন তার মতো করে। আমরা একসঙ্গে যাইনি। কক্সবাজার গিয়ে দেখা হয়েছে।

কক্সবাজারে একসঙ্গে ঘোরাঘুরির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘কক্সবাজার গিয়ে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে হোটেল লবিতে। পূর্বপরিচিত হিসেবে একসঙ্গে কফি খেয়েছি। তখন আরও অনেকেই ছিলেন। এটা তো বড় কিছু নয়। আর একসঙ্গে ঘোরাঘুরির বিষয়টি মিথ্যা।’

হাফিজা হক শাহ বলেন, ‘তা ছাড়া আমি আমার মতো করেই শনিবার বিকেলের ফ্লাইটে ঢাকায় চলে আসি। পাকিস্তানের হাইকমিশনার কবে গেছেন বা কবে ফিরেছেন, তাও আমি জানি না।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই; বরং রয়েছে সুসম্পর্ক।’

হঠাৎ কেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার নিজ দেশে
সূত্র বলছে, পাকিস্তানের হাইকমিশনারের কক্সবাজার ভ্রমণের সময়ই তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনের তলবের ভিত্তিতে জরুরিভাবে ঢাকায় ফেরেন সৈয়দ আহম্মেদ মারুফ। হাইকমিশনারের ভ্রমণ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ হলে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। বিষয়টি পাকিস্তান সরকার অবধি পৌঁছায়। পরে তাকে জরুরিভাবে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকমিশনার তার সফরসঙ্গী সেই নারী ও বন্ধু আজহার মাহমুদকে কক্সবাজার ফেলে ঢাকায় ফেরেন।

জানা গেছে, পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরত আসার কথা ছিল ১০ মে রাত ৯টায়। কিন্তু আকস্মিকভাবেই নিজের টয়োটা ধূসর রঙের গাড়িতে ঢাকায় আসেন হাইকমিশনার। আর রোববার তিনি পাকিস্তানে ফিরে যান।

জানতে চাইলে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তানের হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ সরকারি কাজে পাকিস্তানে গেছেন।

অনেকেরই দাবি এ বিষয়ে জানতো তার হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও। আহমেদ মারুফের সঙ্গে ওই নারীর সর্বশেষ কক্সবাজার সফরে যাবার একটি ছবিও পাওয়া গেছে। ফলে সম্পর্কের বিষয়টি “দৃষ্টিকটুভাবে” সামনে আসে। এ কারণেই পাকিস্তান সরকার আহমেদ মারুফকে ডেকে নিয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: ভারত চেয়েছিলো পাকিস্তানকে শক্তি দেখাতে, কিন্তু প্রকাশ পেলো দুর্বলতা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর