রাতভর নাটকীয়তা শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আজ শুক্রবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নগরীর দেওভোগ এলাকায় আইভীর বাসভবন চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে এলে সে সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন দিনের আলো ফুটলে যাবেন। শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় তিনি সহযোগিতা করেছেন।
গ্রেপ্তারের সময় সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা না দেখিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি নারায়ণগঞ্জে ২১ বছরের সেবায় কোনো দল কিংবা ব্যক্তিকে আঘাত করার মতো কিছু কখনও করিনি। যখনই নারায়ণগঞ্জে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তখনই আমি প্রতিবাদ করেছি, নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। অথচ আমাকে অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হলো।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ধরতে গেলে আশপাশের এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেওভোগ এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকরা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় ছয়টি মামলা আছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করতে তার নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে সাবেক নাসিক মেয়র আইভীকে আটক করতে দেওভোগ এলাকায় আইভীর বাসভবন চুনকা কুটিরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ থানার ওসি নাসির উদ্দিনসহ অন্তত ৫০ জন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যের একটি দল প্রবেশ করে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে রাস্তায় নেমে তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় আইভীর বাড়ির প্রবেশ পথের দুই রাস্তায় বাঁশ, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি ফেলে অবরোধ করলে পুলিশ সদস্যরাও বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ সময় আইভীর পুরোনো বাড়ির সামনে অবস্থানরত বিক্ষুব্ধ মানুষদের উদ্দেশে হ্যান্ডমাইকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদি বলেন, আইভীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। আমরা তাকে নিয়ে যাবো। আপনারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। আপনারা যদি অবস্থান করেন করতে পারেন, আমরাও এখানে অবস্থান করবো এবং তাকে নিয়ে যাবো।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে এনসিপির অবস্থান
