আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে নিষিদ্ধসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এসব দাবিতে আগামী ২৩ মে সারাদেশে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে অরাজনৈতিক এই ইসলামী সংগঠনটি।
আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো হলো-বর্তমান নারী কমিশন বাদ দিয়ে নতুন করে কমিশন গঠন করে যেখানে আলেম ও ওলামাদের যুক্ত করা, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পুনঃবিশ্বাস স্থাপন ও বহুত্ববাদ বাতিল করা, শাপলা চত্বরের হত্যার বিচার করা, আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করে তাদের বিচার করা, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
এ ছাড়া ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় দাসের জামিন বাতিল করা, আওয়ামী লীগের আমলে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করা, প্রাইমারি থেকে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, রাখাইনে করিডোর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে ও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা।
নারী অধিকার সংস্কার বিষয়ক কমিশনের প্রস্তাব বাতিল, শাপলা ট্র্যাজেডিসহ আওয়ামী শাসনামলে সব গণহত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহার পিছিয়ে গেলে নির্বাচনের পর নতুন যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা এসব মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
এই হেফাজত নেতা বলেন, ‘আমরা সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ সরকার তো ইতিমধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তো নির্বাচনের আবহ তৈরি হলে আমাদের মামলাগুলো প্রত্যাহার হবে না। আমরা একটা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়ে যাব। সরকার তো অনেকের হাজারো দাবি মানছে, তাহলে আমাদের দাবি মানতে সমস্যা কোথায়?’
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পলাতক হাসিনার আওয়ামী লীগ মারা গেছে বাংলাদেশে আর জানাজা হয়েছে দিল্লিতে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ লালকার্ড দেখিয়ে দিয়েছেন ৫ আগস্ট। সেদিনই আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি, এই ভূখণ্ডে আওয়ামী লীগের আর পুনর্বাসন হবে না।’
এর আগে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মহাসমাবেশ সফল করতে দলে দলে সমাবেশস্থলে আসেন। এরপর সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় সমাবেশ। এতে হেফাজতের সিনিয়র নেতারাসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এরপর দুপুর ১টার পর এই মহাসমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: ‘মানবতার জননী’ থেকে ‘জুলুমের রাণী’, হাসিনার উত্থান-পতনের গল্প
