, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ডা. শাহাদাত


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রকাশের সময় :২০ এপ্রিল, ২০২৫ ৪:০৮ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছেন। এ বিষয়ে আজ রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-২ শাখা) থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা প্রদান সংক্রান্ত ডি.ও পত্রটি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করা হলো (কপি সংযুক্ত)। বর্ণিত ডি.ও পত্রের বিষয়ে সদয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে বিনীত অনুরোধ করা হলো।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে প্রথম মেয়র হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মেয়র ছিলেন বিএনপির মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। তিনিও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা তিন দফায় মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে প্রয়াত মেয়র এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী একবার প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন।

এরপর ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এদের কাউকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন।

গত বছরের ৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এরপর ৫ নভেম্বর তিনি মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এর আগে গত বছরের ১ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত করে সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের সময় হামলা, গোলাগুলি, প্রাণহানি ও ক্ষমতাসীনদের শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। এতে ভোটের উৎসব অনেকটা ম্লান হয়ে যায়। ভোটগ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে রেজাউলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়রপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

জানা গেছে, ডা. শাহাদাত হোসেন তৎকালীন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলের ইভিএমের প্রিন্ট করা কপি চান। কিন্তু তিনি ডা. শাহাদাতকে ফলাফলের প্রিন্ট কপি দেননি।

এরপর ডা. শাহাদাত আদালতের দ্বারস্থ হন। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল চেয়ে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা ঠুকে দেন। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে চসিক কর্মকর্তারা রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, নির্বাচনের নামে ওইদিন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কেন্দ্র থেকে ইভিএমের ফলাফলের প্রিন্ট কপি দেওয়া হয়নি। ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ভোট পড়ে। কিন্তু ভোটের হিসাবে দেখানো হয়, ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

মামলার এজাহারে ডা. শাহাদাত আরও অভিযোগ করেন, তিনটি ভোটকেন্দ্রে তার শূন্য ভোট দেখানো হলেও তিনদিন পর ২৮টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট দেখানো হয়, যা অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয়।

নির্বাচনের সাড়ে তিন বছর পর গত ১ অক্টোবর এ মামলার রায়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে চলন্ত সিএনজিতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, দুই নারী দগ্ধ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর