জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দলের নাম ঘোষণা করেন শহীদ মো. ইসমাইল হাসান রাব্বির বোন মিম আক্তার।
মিম বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, গত ৫ আগস্ট দুই বোনের কাঁধে ভাইয়ের লাশ; সে দুই বোনের মধ্যে আমি একজন। ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটে নাই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলের নাম জাতীয় নাগরিক পার্টি ঘোষণা করছি।’
তরুণদের নতুন এই দলের আহ্বায়ক হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিবা, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ভারতপন্থী-পাকিস্তানপন্থী কোনো রাজনীতি চলবে না। বাংলাদেশকে আর কখনো বিভাজিত করা যাবে না। আমরা সাম্যের কথা, সম্ভাবনার কথা ও স্বপ্নের কথা বলতে চাই। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ আমরা এখানে এসেছি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, গত ১৫ বছর দেশে যে বিভাজনের রাজনীতির ষড়যন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা তা ভেঙে দিয়েছি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আগামীতে গণভবনে কে যাবেন; অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা ভারত থেকে নির্ধারিত হবে না। তা নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ থেকে। কারা সংসদে যাবেন, তা ঠিক করবে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া জনতা। মসনদে কে বসবে, এই ভুখণ্ডের মানুষ তা নির্ধারণ করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, গত ৫৩ বছর যে রাজনৈতিক ইনস্টিটিউশনগুলো তৈরি হয়েছে, তার কোনো সিস্টেম বর্তমানে কাজ করছে না। এমন অবস্থায় ছাত্র ও তরুণদের একটি রাজনৈতিক ভূমিকা অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তরুণদের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে দুটি সংগঠন গড়ে ওঠে। এই দুই সংগঠনের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
এর আগে, বিকেল সোয়া ৪টায় তরুণ প্রজন্মের নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ ধর্মমত অনুযায়ী শহীদদের জন্য দোয়া করতে বলা হয়।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে তারুণ্য নির্ভর জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানস্থলে স্লোগানে-মিছিল নিয়ে জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। তাদের কেউ এসেছেন রংপুর থেকে মিছিল নিয়ে, কেউ এসেছেন খুলনা থেকে। নীলফামারী, জয়পুরহাট, রাজশাহী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিতি হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে।
নতুন দল গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও সুস্থ ধারার রাজনীতি করবে। পাশে দাঁড়াবে গণমানুষের, করবে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার-এমন প্রত্যাশা আগতদের।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার ঢল
