ঢাকা মেডেকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজ রোববার দুপুরে এ ঘোষণা দেন তারা।
চিকিৎসকদের দুটি দাবি হলো-২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ দুটি দাবিই মানতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান ঢামেকের চিকিৎসকরা। দুই দফা দাবি না মানায় এর সঙ্গে আরও ৬ দফা দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচি নিয়ে দুপুর ২টার পর ব্রিফ করা হবে বলে জানান তারা।
এর আগে, সকাল থেকে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ও হামলার বিচার চেয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহসানুল হক দীপ্ত (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস টেকনোলজির (বিইউবিটি) ছাত্র ছিলেন।
ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তার সহপাঠীরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঢামেকের এক চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অনস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারেও ভাঙচুর চালায়। এ সময় হাতেনাতে চারজনকে আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢামেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান অভিযোগ করে বলেন, বিইউবিটির (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি) এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো কথা না বলেই ওটি থেকে বের করে তিন চিকিৎসককে মারপিট করে। এমনকি নিউরোসার্জারি ওয়ার্ড থেকে মারতে মারতে পরিচালকের রুম পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কা এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় চিকিৎসকরা দোষীদের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ২৪ ঘণ্টা পর তারা কর্মবিরতিতে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। তবে আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার আগেই কর্মবিরতিতে যান চিকিৎসকরা।
আজ সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: পিকআপ ভ্যানে ৭ শিক্ষার্থীর লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে পুলিশ!
