দীর্ঘ ৯ বছর ভারতে বাধ্য হয়ে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে দিল্লি থেকে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্বাগত জানান। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি।
গত মঙ্গলবার গৌহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস ইস্যু হয়েছে তার।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সালাহউদ্দিন ‘গুম’ হন। ৬২ দিন পর ওই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।
তবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে সালাউদ্দিন জানান, গোয়েন্দা পরিচয়ে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তাকে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। একটি প্রাইভেটকারে তাকে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গাড়িটি কোথা থেকে ছেড়েছিল বা গাড়িতে আর কে বা কারা ছিলেন, তা তিনি তখন বলতে পারেননি।
১৯৯৬ সালে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
২০১৫ সালে গুম হওয়ার সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ভারতের জেলে থাকাকালে তাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থেকে তাকে পুরোপুরি খালাস দেন ভারতের আদালত। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিলো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত সালাউদ্দিনের পক্ষেই রায় দেন। চূড়ান্ত বিচারে তাকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করা হয়।
সালাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, মামলা শেষ হওয়ার পর থেকে দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল থাকলেও রাজনৈতিক কারণে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাসপোর্টবিহীন সালাউদ্দিন ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
আরও পড়ুন:
লাশের মিছিল না দেখতে পদত্যাগ করেছি: শেখ হাসিনা
জয়-আরাফাতের জুডিশিয়াল ক্যু করার ‘ষড়যন্ত্র ফাঁস’
