দেশে ফিরে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘মানুষের আস্থা ফেরাতে কাজ করবে নতুন সরকার। আমার ওপর ভরসা রাখুন, দেশের কোথাও হামলা হবে না।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৩টায় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
এর আগে তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ড. ইউনূস বলেন, ‘আজকে আবু সাঈদের (রংপুরে গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) কথা মনে পড়ছে আমাদের। যে আবু সাঈদের ছবি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। কী অবিশ্বাস্য এক সাহসী যুবক! বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তারপর থেকে আর কোনো যুবক-যুবতী হার মানেনি, সামনে এগিয়ে গেছে। তারা বলেছে, যত গুলি মারো মারতে পারো, আমরা আছি। যার কারণে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে গেছে এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতেই হবে।’
নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আজকে আমাদের গৌরবের দিন। যে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ নতুন বিজয় দিবস সৃষ্টি করল সেটাকে সামনে রেখে এবং আরও মজবুত করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘যারা এটাকে সম্ভব করেছে-তরুণ সমাজ-তাদের প্রতি আমি আমার সমস্ত প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমার পাশে আছে। তারা এ দেশকে রক্ষা করেছে, এ দেশকে পুনর্জন্ম দিয়েছে এবং এ পুনর্জন্মে যে বাংলাদেশকে পেলাম সে বাংলাদেশ যেন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে পারে, সেটাই আমাদের শপথ। সেটা আমরা রক্ষা করতে চাই।’
দেশের কোথাও হামলা না করার আহ্বান জানিয়ে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘যদি আমাকে বিশ্বাস করেন তাহলে সারাদেশে চলমান হামলা বন্ধ করেন। তা না করলে আমার এখানে প্রয়োজন নেই।’
এ সময় ড. ইউনূসের তরুণ সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বারেবারে উপদেশ দিই, পুরোনোদের বাদ দাও। পুরোনোদের চিন্তা দিয়ে কিছু হবে না। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দুনিয়ার কথা বলছি। তোমাদের মধ্যে যে শক্তি আছে, সৃজনশীলতা আছে, সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। শুধু বইখাতাতে লেখার জিনিস না, সেটা প্রকাশ করার জিনিস।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এর মধ্যে আসার পথে শুনলাম, এখানে আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত হচ্ছে। মানুষ মানুষকে আক্রমণ করছে, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, সম্পদ জ্বালিয়ে নষ্ট করছে, পুড়িয়ে দিচ্ছে, অফিস-আদালতে আক্রমণ করছে, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করছে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমাদিয়া সবার ওপর আক্রমণ করছে। এগুলো ষড়যন্ত্রের অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই হবে আমার প্রথম কাজ।’
অলিম্পিক কমিটির আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে ফ্রান্সের প্যারিসে গিয়েছিলেন ড. ইউনূস। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, তার একটি ছোট অস্ত্রোপচার হয়েছে। এরপর দেশে ফিরলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজ বৃহস্পতিবার শপথ নিতে যাচ্ছে। রাত সাড়ে ৮টায় শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনা। পদত্যাগের পর দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্তির পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
আরও পড়ুন:
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ আজ, উপদেষ্টা হচ্ছেন কারা
শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার শেষ চার ঘণ্টা যা ঘটেছিল
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায়
পালাতে গিয়ে বিমানবন্দরে আটক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান
