কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম-বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে সাদা পোশাকের কিছু ব্যক্তি তাদের তুলে নিয়ে যায় বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্স বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিকেল ৪টার কিছু পরে তাদের তুলে নেওয়া হয়। গত কয়েক দিন ধরে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তারা। ছিলেন নজরদারিতে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই তাদের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ জানিয়েছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নাহিদ ইসলাম ও তার স্ত্রী, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদারকে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নাহিদের বোন ফাতেমা তাসলিম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ নাহিদ ও তার স্ত্রী আর আসিফকে তুলে নিয়ে গেছে। তখন তারা দু’জনই অসুস্থ ছিলো। তুলে নেওয়ার সময় তারা দু’জনই থরথর করে কাঁপছিলো। তাদেরকে প্যান্ট পরতেও দেওয়া হয়নি।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে গোয়েন্দা পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের কেবিনে ঢুকে কাউকে দেখা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি, এমনকি গণমাধ্যমের সঙ্গেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে একটি বার্তা পাঠান। এতে তিনি বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় আমাকে, নাহিদ ভাই আর বাকেরকে গৃহবন্দি করেছে ডিবি পুলিশ। ওয়ার্ডের সামনে, হাসপাতালে ডিবি পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হাসপাতালের সামনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের সব ধরনের কমিউনিকেশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসেও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।’
গতকাল রাতে ডেইলি স্টারের একজন প্রতিবেদক সরেজমিনে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, হাসপাতালের সপ্তম তলায় নাহিদের কেবিনের সামনে তিনজন ও তৃতীয় তলায় আসিফের কেবিনের সামনে চারজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে সাদা পোশাকে দেখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই গোয়েন্দা সদস্য ওই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই দুটি কেবিনে প্রবেশ নিষেধ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা আছে।’
এর আগে গত ২০ জুলাই ভোরে রাজধানীর সবুজবাগের একটি বাসা থেকে নাহিদ ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বাম উরু ও কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা ও গভীর ক্ষতসহ রোববার তাকে পাওয়া যায়।
এর আগে ১৯ জুলাই আসিফ মাহমুদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পাঁচ দিন পর তাকে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ‘অবরুদ্ধ’ নাহিদ ও আসিফ, কেবিনের সামনে ‘গোয়েন্দা পুলিশ’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নাহিদকে তুলে নিয়ে নির্যাতন
খোঁজ মিললো কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৩ নেতার
