, | |

মূলপাতা রাজধানী

কোটা বাতিল আন্দোলন: এক দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা


আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে কোটা বাতিলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের সময় :৭ জুলাই, ২০২৪ ৯:০১ : অপরাহ্ণ

চলমান চার দফা দাবিতে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে এক দফা দাবিতে নামিয়ে এনে আাবার সারাদেশে ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

আজ রোববার রাত ৮টার দিকে শাহবাগে অবরোধ শেষে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

আগামীকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মূল ব্লকেড আন্দোলন শুরু হবে। একই সময়ে সারাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এই ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হবে।

শিক্ষার্থীদের নতুন এক দফা দাবি হলো- সব গ্রেডে সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সম্বনয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ধর্মঘট অনির্দিষ্ট সময়ের জন্যে চলমান থাকবে। আমাদের ব্লকেড কর্মসূচি সারাদেশে আর বিভিন্ন পয়েন্টে চলবে। আমরা আজকে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ব্লকেড করেছি। আগামীকালকের ব্লকেড ফার্মগেট অতিক্রম করবে।’

নতুন কর্মসূচি ঘোষণার আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আন্দোলনকারীদের চার সমন্বয়ককে আলোচনার জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে ফিরে তারা নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

এর আগে আজ বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এ পর্যায়টিকে ‘বাংলা ব্লকেড’ বলে উল্লেখ করছেন তারা।

শাহবাগ মোড়ে অবরোধ চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সম্বনয়ক সার্জিস আলম বলেন, ‘কোটা সংবিধানে বাধ্যতামূলক নয়। এটি দিতে বাধ্য করা সংবিধানবিরোধী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই আন্দোলন যৌক্তিক নয়। বঙ্গবন্ধুর পাশে কিন্তু মোস্তাক ছিল। আমাদের সন্দেহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে কিছু মোস্তাক আছে। আমাদের প্রাণের দাবিগুলো তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন না।’

 

আরও পড়ুন: কোটাবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী, অবরুদ্ধ শাহবাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘আমরা আজ শাহবাগ থেকে বলতে চাই, পুরো বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি সংবিধান অনুসারে কোটা বিলুপ্ত করুন। পিছিয়ে পড়াদের জন্য কিছু কোটা থাকতে পারবে। যেদিন আমাদের দাবি আদায় হবে সেদিন আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাবো।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি এ সিদ্ধান্তকে হাইকোর্ট গত ৫ জুন অবৈধ ঘোষণা করে।

গত ৪ জুলাই সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখার আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: কোটা বাতিল আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর