রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা দেশজুড়ে

যুবদল নেতা শাওন হত্যা: ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করে বিএনপির মামলা


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৬ অক্টোবর, ২০২২ ১১:০১ : পূর্বাহ্ণ

মুন্সিগঞ্জে যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওনের নিহতের ঘটনায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসিসহ ৯ পুলিশকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

আজ বৃহস্পতিবার মো.সালাহ উদ্দিন খাঁন বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ সুপার মিনহাজ উল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অতিরিক্তি এস.পি (প্রশাসন) সুমন দেব, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ তারিকুজ্জামান, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার এস.আই মো. ফরিদ উদ্দিন, এস.আই মো. আরিফুর রহমান, এস.আই সুকান্ত বাউল, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার এ.এস.আই নকুল চন্দ্র ধর, এ.এস.আই অজিত চন্দ্র বিশ্বাস ও এ.এস.আই মন্টু বৈদ্য। এছাড়াও মুন্সিগঞ্জ জেলার ৪০-৫০ জন পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে ২০০-৩০০ জন অস্ত্রধারী সিভিল ড্রেসে থাকা সরকার দলীয় সন্ত্রাসী উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

মামলায় স্বাক্ষী হয়েছেন ৩ জন তারা হলেন-মামলার বাদী মো.সালাহ উদ্দিন খাঁন, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন ও শাওনের বাবা হাজী মহিউদ্দিন আহমেদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়ে বলা হয়, ঘটনার সাথে থানার ওসি সরাসরি জড়িত বিধায় থানায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বাদীর নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বিধায় ঘটনাটি আদালতের বিচারিক এখতিয়ারাধীন এলাকায় হওয়ায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতের শরণাপন্ন হইলেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ-উল-ইসলাম ও সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ বিএনপির মিছিলে বাধা দিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ প্রথমে বিএনপির মিছিলের ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এরপর নেতা-কর্মীদের লাঠিচার্জ করে। তখন নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যপুরি ইটপাটকেল মারেন। এসময়ে পুলিশও কাদানে গ্যাস, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিএনপির অন্তত ৬০ জন আহত হন। এর মধ্যে যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওনসহ গুরুতর আহতদের সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শাওনের।


আরও খবর